মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন,“আমি ছাত্রশিবিরকে ধন্যবাদ জানাই, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তারা অবশেষে ছবি সরিয়ে নিয়েছে।”
‘৩৬ জুলাই: আমরা থামবো না’—এই শিরোনামে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রদর্শনীতে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ নামে একটি বিভাগ রাখা হয়, যেখানে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি প্রদর্শন করা হয়। ছবিগুলোতে ছিলেন—মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, আব্দুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, মীর কাসেম আলী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।
যুদ্ধাপরাধের দায়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ে এদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে মারা যান। এই রায়ের মধ্যে গণহত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় প্রমাণিত হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয় ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে।
তবে এই বিতর্কিত প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াত আমির গোলাম আযমের ছবি রাখা হয়নি, যিনি ৯০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৪ সালে কারাগারে মারা যান।
ছাত্রশিবিরের এই আয়োজন নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নউরিন সুলতানা তমা বলেন,গণঅভ্যুত্থান দিবসে রাজাকারদের ছবি টাঙিয়ে ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করেছে। তারা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—মুক্তিযুদ্ধবিরোধিতার প্রচার চালাতেই এ আয়োজন।”
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সর্ব মিত্র বলেন,
“একাত্তরের রক্ত শুকিয়ে যেতে পারে, কিন্তু একাত্তরের গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন—এসব আমরা ভুলে যাইনি। রাজাকারদের ছবির প্রদর্শনী কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন,“গত বছর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ‘রাজাকার’ তকমা শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল হয়ে উঠেছিল। এবার ছাত্রশিবির সেই ক্ষতকে নতুন করে খুঁচিয়ে তুলেছে।”
এ নিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম ফরহাদ বলেন,“একাত্তর বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়—এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু শেখ হাসিনার আমলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম হয়েছে। তাই আমরা একে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ বলছি।”
তিনি দাবি করেন,“স্কাইপি কেলেঙ্কারির মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। সাক্ষী ও আইনজীবীদের গুম করে নির্যাতন চালানো হয়েছে। এমন বিচার ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়।”
৩৬ জুলাই উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের এই তিন দিনব্যাপী আয়োজন চলবে ৭ আগস্ট পর্যন্ত। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে:চিত্র প্রদর্শনী, জুলাই বিপ্লব নিয়ে ডকুমেন্টারি,বিপ্লবের গান ও কবিতা
,শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের গল্প,বিতর্ক ও আলোচনা সভা।টিএসসির সবুজ চত্বরে তৈরি করা হয়েছে প্রতীকী ‘ফতেহ গণভবন’ ও ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেস’। প্রদর্শনীতে রয়েছে বিপ্লবী নারী চরিত্রের চিত্র, গণভবন দখলের প্রতিকৃতি, শহীদ আবু সাইদসহ অন্যান্যদের ছবি।