দুদক সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এএসপি আব্দুস ছালাম ও তাঁর স্ত্রী শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে মামলা করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন। মামলায় দুজনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। মামলা হওয়ার সময়ও আব্দুস ছালাম গোদাগাড়ী সার্কেলের এএসপি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শাহানা পারভীন তাঁর সম্পদ বিবরণীতে ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর নামে ৯৫ লাখ ১৬ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। তাঁর বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া যায় ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এ হিসাবে ৭৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে শাহানা পারভীনকে গৃহিণী উল্লেখ করে বলা হয়, এএসপি আব্দুস ছালাম দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে স্ত্রীর নামে ওই অর্থ বিনিয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল বারী বলেন, দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়ায় আব্দুস ছালাম ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে সহকারী পরিচালক তানভীর আহমেদ সিদ্দিক তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এএসপি আব্দুস ছালাম তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ অনুসন্ধানের পর আমার স্ত্রী দুদকের কর্মকর্তাকে বলেছিলেন, তাঁরাই দুর্নীতি করেন। এই মন্তব্যের কারণেই প্রতিহিংসাবশত মামলাটি করা হয়েছে। দুদকের মামলার কোনো ভিত্তি নেই। আমি লিখিত দিয়েছি।’
মামলার বিষয়ে রাজশাহীর পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ‘আমি রাজশাহীতে নতুন এসেছি। এএসপি আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার বিষয়টি জানা নেই। আমাকে খোঁজ নিতে হবে।’
পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদও মামলাটির বিষয়ে জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’