জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকের কার্যবিবরণী পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯টি বৈঠকে ৮৭টি চলমান প্রকল্প সংশোধন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫টির ব্যয় বেড়েছে, ১৫টির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং মাত্র ৭টির ব্যয় কমানো হয়েছে। ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা, যা আগের অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় খুবই সামান্য।
যেসব প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে, সেগুলোর প্রাথমিক অনুমোদিত ব্যয় ছিল দুই লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনের পর তা দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪ হাজার কোটি টাকায়। গড়ে ব্যয় বৃদ্ধি প্রায় ৩৬ শতাংশ।
বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় পুনর্নির্ধারণ করে এক লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। অনুমোদনের সময় যা ছিল এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। ঢাকার পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার ১৫ কোটি টাকা, যা শুরুর তুলনায় আড়াই গুণের বেশি। এছাড়া সড়ক, বন্দর ও নগর পয়ঃনিষ্কাশন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রকল্পেও হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে সব ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়েনি। ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পে ৭৫৪ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। স্টেশন এলাকা উন্নয়ন ও জমি অধিগ্রহণের কিছু অংশ বাদ দেওয়ায় এই সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে একই সময়ে সরকার ১৩৫টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে, যার মোট ব্যয় দুই লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এসব প্রকল্পের বড় অংশ চট্টগ্রাম জেলায় বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ২১টি জেলার জন্য নতুন কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যয় সংকোচনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে পুরোনো ধারা পুরোপুরি বদলানো যায়নি। ফলে উন্নয়ন ব্যয়ের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।