নাছির বলেন, দীর্ঘ সময়ের নানা অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রাম, সাফল্য ও সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের সময় শেষ হচ্ছে। এই সময়ে সংগঠনের সহকর্মী ও নেতাকর্মীদের সহযোগিতা এবং ভালোবাসার কথাও স্মরণ করেন তিনি।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে নাছির বলেন, একসময় তিনি ভাবেননি যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাবেন। রাজনীতি শুধু পদ-পদবির বিষয় নয়, মানুষের পাশে থাকা এবং নিজের বিশ্বাসের জন্য কাজ করাও এর অংশ।
ছাত্ররাজনীতির দীর্ঘ সময়ের নানা ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের স্মরণ করেন। তাদের ত্যাগের কারণেই সংগঠন আজকের অবস্থানে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নাছির জানান, তার রাজনৈতিক জীবনে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা ছিলেন। ২০২৪ সালের ১ মার্চ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেওয়ার পর জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে তার দায়িত্বকালের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ওই আন্দোলনে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন নাছির। একই সময়ে নোয়াখালী ও ফেনী অঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেন তিনি। তার ভাষায়, রাজনীতি শুধু কর্মসূচি বা মিছিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোও রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ।
দায়িত্ব পালনকালে প্রায় দুই হাজার সাংগঠনিক কমিটি গঠনের কথা জানিয়ে নাছির বলেন, এটি তার একার কাজ নয়; সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তবে কয়েকটি কমিটি শেষ করতে না পারায় আক্ষেপের কথাও জানান তিনি।
ছাত্রসংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার বিষয়টিও নিজের দায়িত্বকালের একটি অপূর্ণতা হিসেবে উল্লেখ করেন নাছির। তার মতে, এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে ছাত্রদল আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী হতে পারবে।
বিদায়ী বার্তায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নাছির বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুল বা সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে। তবে ছাত্রদলের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কাজ করার ইচ্ছা তার ছিল না।
তিনি আরও জানান, পদ থেকে সরে গেলেও ছাত্রদলের সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে প্রয়োজন হলে তাদের পাশে থাকার কথাও জানিয়েছেন নাছির।